সকল জল্পনা-কল্পনার পর কোচ হাথুরুসিংহের সেরা পছন্দের ক্রিকেটার খুঁজে বাংলাদেশ, টি-২০ ফরম্যাটে একাই ম্যাচ জেতাতে পারেন তিনি

ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছ থেকে নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করার সবুজ সংকেত পান রনি তালুকদার। হাথুরুসিংহে তখন বলেছিলেন, নেটে রনির পারফরম্যান্সে তিনি আশাবাদী; তবে রনিকে ম্যাচ পরিস্থিতিতে

দেখার ইচ্ছার কথা জানান লঙ্কান এই মাস্টারমাইন্ড।হাথুরুসিংহের পরীক্ষায় বেশ ভালো করেই পাশ করেছেন রনি। যার কারণে রনিকে আবারও প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশের হেড কোচ।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা তিনটি টি-টোয়েন্টি

যে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন রনি, তা কিন্তু একেবারেই নয়!প্রথম ম্যাচে তিনি করেন ১৪ বলে চারটি চারে ২১ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪ বলে ৯ রান করেন এই ওপেনার।আর তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে করেন ২২ বলে তিনটি চারে ২৪ রান।

কার্যত রনির এসব সংখ্যা সেভাবে চোখে না পড়লেও ম্যাচ বিশ্লেষণে তা ছিল দারুণ কার্যকরী।ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পেছনে পাওয়ার প্লে’তে লিটন দাস বা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তার জুটিগুলোর ছিল বড় অবদান।ভালো খেলার

কারণে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজের টি-টোয়েন্টি দলেও ডাক পেয়েছেন রনি। শেষ মুহূর্তে জায়গা করে নিয়েছেন ওয়ানডে দলেও।ম্যাচের আগের দিনও হাথুরুসিংহে আলাদাভাবে বললেন রনির কথা।তিনি বলেন, ‘রনিকে দেখে আমি অনেক

মুগ্ধ হয়েছি। আমি টি-টোয়েন্টির ক্ষেত্রে চরিত্র খুজছিলাম, মনে হয় রনির মাঝে সেটা আমরা পেয়েছি।’ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময়ই পারফর্ম করেন রনি তালুকদার। যদিও ধারাবাহিকতার অভাব ছিল তার। গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে

(বিপিএল) যেন সেই অভাবও দূর করেছেন রনি। ব্যাটে ছুটিয়েছেন রানের ফোয়ারা।বিপিএলের গেল আসরে দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন রনি। ১৩ ইনিংস ব্যাটিং করে ৪২৫ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৩০ আর গড়টা ৩৫ এর একটু

উপরে। রংপুরের প্লে অফের খেলার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রনি। আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও বনে যান তিনি।অথচ ২০২২ বিপিএলে ৬ ইনিংসে মাত্র ১০৫ রান করেছিলেন তিনি। তবে এবার যেন নতুন রূপে দেখা গেল

তাকে। আর এই পারফরম্যান্সের কারণেই ২০১৫ সালের পর জাতীয় দলের ডেরায় ফেরেন রনি।জাতীয় দলের বেশীরভাগ ক্রিকেটারই এখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) খেলছেন। রনিও ব্যস্ত ছিলেন ডিপিএলে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে মোহামেডানের ম্যাচটিতে ৬১ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন রনি।