মেসির অবসরের পর আর্জেন্টিনার ১০ নাম্বার জার্সি যার,জেনেনিন

অর্জনের খাতায় এখন আর কোনো কিছুই বাকি রাখেননি লিওনেল মেসি। ১৬ বছর আগে কে ভেবেছিল একদিন এক আর্জেন্টাইন স্বপ্ন দেখবে ফুটবল বিশ্বের প্রায় সবকিছুই জয় করে নেওয়ার। লিওনেল মেসি শুধু স্বপ্নই দেখেননি সেটি বাস্তবায়নও

করেছেন। ফুটবলের প্রেক্ষাপটে তিনি যেন গ্রিক বীর আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট। গ্রীক বীর আলেকজান্ডার যেমন সমগ্র পৃথিবী জয়ের পন নিয়েছিলেন।তেমনি কোনো এক সময় হয়তো মেসিও সমগ্র ফুটবল বিশ্বে নিজের আধিপত্য বিস্তারের পণ

নিয়ে ফেলেছিলেন। ১৬ বছরের এই ক্যারিয়ারে নানা চড়াই উতরাই পার করে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন এই গ্রেট। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভক্ত সমর্থকদের দিয়েছেন অগণিত আনন্দের সব উপলক্ষ। দলের নেতৃত্ব ভারও নেন নিজ কাঁধে,

শেষ পর্যন্ত দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই বানালেন।ম্যারাডোনার হাত ধরে ফুটবল জায়ান্টে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা, জিতে নেয় দুই দুইটি বিশ্বকাপ। পরবর্তীতে পূর্বসূরী ম্যারাডোনার দেখানো পথে দলকে এগিয়ে নেন মেসি। মেসি যুগের সমাপ্তিও

এখন অতি সন্নিধ্যে। খেলোয়াড় হিসেবে খুব বেশিদিন হয়তো আর বাকি নেই এই ফুটবলারের হাতে। তাই এখন থেকেই মেসির পরবর্তী নেতা কে হবে তা নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।আর্জেন্টিনার দলটি প্রতিভাবান ফুটবলারে

ভরপুর। এই দলের তরুণ ফুটবলারের সংখ্যা অন্যান্য দলগুলোর চেয়ে বেশি। ফলে বিশ্বকাপ জেতা এই আর্জেন্টিনা দল ভবিষ্যতে যে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিস্টিয়ানো রোমারিও, লটারিও মার্টিনেজ,জুলিয়ান

আলভারেজ,পাওলো দিবালা এদের মধ্যকার কেউই হতে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ আর্জেন্টাইন নেতা।এই তালিকায় পাওলো দিবালাকে দেখে অনেকেই কিছুটা ধাক্কা খেতে পারে। এই বিশ্বকাপে নিয়মিত সেরা একাদশে সুযোগ না পাওয়া একটি ফুটবলার

কিভাবে ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনা দলের নেতা হতে পারে। উত্তর বেশ পরিষ্কার, সহজাতভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবলার পাওলো দিবালা। গোলের জন্য খেলতেই পছন্দ করেন। মেসির অবসরের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে যে শূন্যতা তৈরি হবে

সেটি পূরণের সেরা অস্ত্র হবেন এই দিবালাই। আর্জেন্টিনার আক্রমণ বিভাগের ভবিষ্যৎ নেতা হতে যাচ্ছেন এতোটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পুরো দলের নেতা হতে পারবেন কিনা এখন সেটাই দেখার পালা।ক্রিশ্চিয়ানো রোমারিও, ২৪ বছর ব

য়সী এই সেন্টার ব্যাকের বাজার মূল্য আর্জেন্টিনা দলে সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিয়ন ডলার। মাঝ মাঠে দারুণ কার্যকরী এই ফুটবলার। খেলার দ্বারা দলে অবদান রাখার পাশাপাশি সতীর্থদেরও মাঠে নানাভাবে উজ্জীবিত করেন এই ফুটবলার।

অথচ বয়স মাত্র ২৪ বছর, নিজের বয়সের তুলনায় বেশ পরিণত রোমারিও। তাই ভবিষ্যৎ নেতা হওয়া দৌড়ে নিশ্চিতভাবেই থাকবেন এই ফুটবলার। দুই তরুণ ফুটবলার লটারিও মার্টিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজ দুজনের বয়স যথাক্রমে

২৫ এবং ২২। খেলায় নিজেদের বয়সের তুলনা অনেক বেশি পরিণত এই দুই ফুটবলার। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে দলের জয় নিশ্চিতে অবদান রাখেন মার্টিনেজ। বিশ্বকাপ জুড়ে আলভারেজের পারফরমেন্সও ছিল চমক জাগানিয়া।

প্রতিটি ম্যাচেই দলের জয়ে কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছেন এই দুই ফুটবলার। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই দুই ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সব মিলিয়ে দু বছরেরও কম সময়ের। অর্থাৎ কাছাকাছি সময়ের মধ্যে নিজেদের

সেরা দুই ফুটবলারকে পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এত অল্প বয়সে বিশ্বকাপ জেতার অনুভূতি নিশ্চয়ই আরও বড় ফুটবলার হতে সাহায্য করবে এই দুজনকে।বলা যায় না হয়তো এদের মধ্যেই কেউ হয়ে উঠবেন পরবর্তী মেসি কিংবা ম্যারাডোনা। নিশ্চিতভাবেই

মেসির অবসরের পর বিশাল একটা শূন্যতা তৈরি হবে আর্জেন্টাইন ফুটবলে। তবে মেসি যাদের রেখে যাচ্ছেন তাদের হাতে যে আর্জেন্টিনার ফুটবল সুরক্ষিত থাকবে এই ভরসাটুকু ঠিকই করা যায়। হয়তো মেসির চেয়েও ভালোভাবে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই ভবিষ্যৎ তারকারা। সবাইকেই ছাপিয়ে যাওয়া যায় এই বিশ্বাসটুকু তো মেসিই ওদের করতে শিখিয়েছে।