বেরিয়ে এলো আসল তথ্যঃ যে কারনে পিসিবি থেকে সরানো হল রমিজকে

গত এপ্রিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অনাস্থা ভোটে হারার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল পিসিবি সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন রমিজ। এই ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলতে ইমরান খানের অফিসেও গিয়েছিলেন সাবেক

পাকিস্তানি ওপেনার। আলাপকালে রমিজকে পদত্যাগ করতে বারণ করেন ইমরান খান।পরবর্তীতে মিডিয়াতে ইমরান খান বলেন, রমিজ আমার খেলোয়ার, আমি ওকে বলেছি শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে। নিজের ক্ষমতাকালীন সময়ে রমিজকে

খোদ ইমরান খান সরাসরি পিসিবি সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। বিশ্বসেরা ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্ত পুরোদমে বদলে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেটের চিত্র। বিগত কিছু সময়ে আগেও ধুকতে থাকা দলটি কোনো ম্যাচ না হেরে সরাসরি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে

উত্তীর্ণ হয়।পরবর্তীতে প্রায় প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে পাকিস্তান। ২০২২ বিশ্বকাপে তো খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ব্যর্থতার জেরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের

চিত্র বদলে দেওয়া লোকটিকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়।মূলত দল কখন খারাপ করবে এই অপেক্ষাতেই ছিল শাহবাজ শরীফের সরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ সাবেক পিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজাম শেঠি। ইমরান খানের অনাস্থা

ভোটে পরাজিত হওয়ার পর নাজাম শেঠির পিসিবি প্রেসিডেন্ট হওয়া সময়ের বেপারই মনে হচ্ছিল।তবে পাকিস্তান দল অনবরত ভালো করায় সেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না শাহবাজ শরীফ। পাকিস্তান দল ভালো করা অবস্থায় রমিজ রাজাকে বরখাস্ত

করা মানে সাধারণ জনগনের ক্ষোভের মুখে পড়া। নানা কারণে এমনিতেই জনপ্রিয়তা অনেকাংশেই হারিয়ে ফেলেছে সরকার।এছাড়াও পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানকেই দেখতে চান। ফলে পাকিস্তানের ভালো সময় রমিজকে

বরখাস্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। তবে রমিজকে পিসিবি পদে রাখাটাও সরকারের জন্য কিছুটা অপমান সূচকই বটে। পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিভাগের দায়িত্বে ইমরান খানের লোককে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না তারা।

তাই সুযোগ বুঝে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারটা কাজে লাগিয়েছে সরকার।তা না হলে ভুরি ভুরি সাফল্যের মাঝে এতোটুকু ব্যর্থতার জেরে কাউকে সরানো কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। এছাড়াও রমিজ রাজার বরখাস্তে

বেশ চটে গিয়েছে সাধারণ জনগণ। জনগণের মতে, ভালো করতে থাকে একটি দলের আচমকাই বোর্ড সভাপতি পরিবর্তন করে ফেলার ফলে দলটির ছন্দপতন হলে সে দায়িত্ব কে নেবে? অযথাই ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজনটা কি। দলের সাথে অত্যন্ত

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রমিজ রাজার।একটি পরিবারের মতো খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান দলটি। রমিজ রাজার বোর্ড ছিল তাদের অভিভাবকের মতো। ক্রিকেটের খারাপ সময়ে ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে সমর্থন জুগিয়েছেন রমিজ। নিজেও ক্রিকেটার ছিলেন

তাই ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা তার চেয়ে আর কে ভালো বুঝে?নাজাম শেঠির অধীনে বিগত সময়ে বেশ খারাপ পারফরমেন্স করেছে পাকিস্তান দল। উড়তে থাকা এই পাকিস্তানের পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারবেন কিনা এটাই এখন দেখার পালা। যদি

না রাখতে পারেন, তাহলে হয়তো বিশাল চাপের মুখেই পড়তে হবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পিসিবি সভাপতির। হয়তো তার চেয়েও বেশি চাপে পড়বে খোদ পাকিস্তান সরকার।