ফেঁসে যাচ্ছে রাজধানীর নামিদামি ৭ স্কুল

গ’লা’কা’টা টি’উ’শন ফি আ’দা’য় ক’রে ফেঁ’সে যা’চ্ছে রা’জ’ধা’নীর না’মি’দা’মি সা’ত’টি স্কু’ল। এ’স’ব প্র’তি’ষ্ঠা’নে’র বি’রু’দ্ধে এ’বা’র স’রা’স’রি ‘অ্যা’ক’শ’নে’ যা’চ্ছে শি’ক্ষা ম’ন্ত্র’ণা’ল’য়। প্র’থ’ম ধা’পে তা’দে’র কা’র’ণ দ’র্শা’নো’র নো’টি’শ দে’ও’য়া হ’বে। প’রে এ’ম’পি’ও বা’তি’লস’হ শা’স্তি’মূ’ল’ক

ব্য’ব’স্থা নে’ও’য়া হ’বে। শি’ক্ষা ম’ন্ত্র’ণাল’য়ে’র’ সং’শ্লি’ষ্ট সূ’ত্রে এ’ম’ন ত’থ্য জা’না গে’ছে।অ’ভি’যু’ক্ত প্র’তি’ষ্ঠা’ন’গু’লো হ’লো- ম’নি’পু’র উ’চ্চ বি’দ্যা’ল’য় ও ক’লে’জ, চে’ত’না ম’ডে’ল এ’কা’ডে’মি, ব’না’নী বি’দ্যা নি’কে’ত’ন স্কু’ল অ্যা’ন্ড ক’লে’জ, শ’হী’দ বী’র উ’ত্ত’ম লে. আ’নো’য়া’র

গা’র্ল’স স্কু’ল অ্যা’ন্ড ক’লে’জ, সা’ম’সু’ল হ’ক খা’ন উ’চ্চ বি”দ্যাল’য়, শহী’দ পুলি’শ স্মৃ’তি স্কু’ল অ্যা’ন্ড ক’লে’জ ও বন’ফু’ল আ’দি’বা’সী গ্রিন’হা’র্ট ক’লে’জ।এ’ছা’ড়া হো’প ই’ন্টার’ন্যা’শনা’ল স্কু’ল না’মে আ’রেক’টি প্রতি’ষ্ঠা’নের বি’রু’দ্ধে ন’তু’ন ক’রে তদ’ন্তে’র নি’র্দে’শ দি’য়ে’ছে ম’ন্ত্রণা’ল’য়।’

এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভর্তি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) চিঠি দিয়েছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক শাখাকে বলা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান

নীতিমালার বাইরে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছে। আমাদের তদারকি দল পরির্দশন করে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব।কিছু প্রতিষ্ঠান নীতিমালার বাইরে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছে। আমাদের

তদারকি দল পরির্দশন করে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদজানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ

বেলাল হোসাইন বলেন, আমি অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে আছি। মন্ত্রণালয়ের চিঠি আমি দেখিনি। তবে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পেলে এমপিও বাতিলসহ যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।গত ২ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও

উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মাউশির মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।ওই চিঠিতে বলা হয়, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজে (মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তর)

শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২২ জারি করা হয়েছে। নীতিমালার ১০ নং ক্রমিকে আবেদন, ভর্তি ও অন্যান্য ফি (বেতন, টিউশন ফি, সেশন চার্জ) ইত্যাদি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ভর্তি নীতিমালার ১১ নম্বর ক্রমিকে ভর্তি ফি বাবদ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত

অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না, করলে সরকার এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে উল্লেখ আছে। এমতাবস্থায়, শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২২ এ নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেওয়া হলো।অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান বলেন, আমি গত ১ মার্চ এ

প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। ভর্তির সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।আমরা অতিরিক্ত ফি নিইনি। মন্ত্রণালয় থেকে যিনি তদন্তে এসেছিলেন তিনি হয়তো ভুল বুঝেছেনসামসুল হক খান উচ্চ বিদ্যালয়ের

প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানভর্তি প্রক্রিয়ার সময় দায়িত্বে থাকা বনানী বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়াঙ্কা হালদার শিখা বলেন, আমি এখন দায়িত্বে নেই, কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বিষয়ে জানতে চাইলে সামসুল হক খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান

শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা অতিরিক্ত ফি নিইনি। মন্ত্রণালয় থেকে যিনি তদন্তে এসেছিলেন তিনি হয়তো ভুল বুঝেছেন। এখন আর কী করার। চিঠি দিলে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জবাব দেবো‌।এদিকে, একই তারিখে

মাউশির ডিজিকে দেওয়া অপর এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসারের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মিরপুরের হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শনের জন্য গেলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

কাউকে পাওয়া যায়নি। এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভর্তি নীতিমালায় যা আছেগত বছরের ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা ভর্তি নীতিমালার ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে

ভর্তি ফির হার উল্লেখের পাশাপাশি বিধান না মানলে শাস্তির কথা বলা হয়েছে।১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সরকার যে খাতগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছে সেগুলোতেই কেবল অর্থ নেওয়া যাবে। বেসরকারি গ্রামাঞ্চলের স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ফি

সেশন চার্জসহ পাঁচশ টাকা। উপজেলায় এক হাজার, জেলা সদরে দুই হাজার এবং ঢাকা বাদে অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি হবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকার অতিরিক্ত

টাকা আদায় করা যাবে না।প্রতিষ্ঠান যদি আংশিক এমপিওভুক্ত (সব শিক্ষককে সরকার বেতন দেয় না) হয়, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন

ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা নিতে পারবে। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না, যা আট বা দশ হাজার টাকার মধ্যেই সীমিত থাকবে।

একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরের ক্লাসে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিবছর সেশন চার্জ নেওয়া যাবে। তবে পুনঃভর্তির ফি নেওয়া যাবে না।উল্লিখিত বিধান না মানলে বা অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে সরকার এমপিও

বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের স্তূপভর্তি নীতিমালা উপেক্ষা করে উল্লেখিত সাতটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রাজধানীসহ সারা দেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আদায় করে। এসব প্রতিষ্ঠানের

বিরুদ্ধে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের স্তূপ জমে ওঠে। এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে মোট ৭৯টি কমিটি গঠন করে।গত বছরের ২১ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দায়ে অভিযুক্ত ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়। তাতে ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গ্রীনফিল্ড স্কুল ও কলেজ, হোপ ইন্টারন্যাশনাল, চেতনা মডেল একাডেমি, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট,

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ও কলেজ, শহীদ আনোয়ারা গার্লস স্কুল ও কলেজ, প্রিপারেটরি গ্রামার স্কুল, কসমো স্কুল, ডেমরার সামসুল হক খান উচ্চ বিদ্যালয়, বনফুল গ্রিনহার্ট আদিবাসী কলেজ, এসওএস হারম্যান মেইনর কলেজ এবং পুলিশ স্মৃতি স্কুল ও কলেজের নাম ছিল।

এসব স্কুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওইসব কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।