চরম অপমানঃ মার্তিনেসকে ‘স্টুপিড’ বললেন ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার

প্রতিপক্ষকে খোঁচাতে বেশ পারদর্শী এমিলিয়ানো মার্তিনেস। তবে বিশ্বকাপ জয়ের পর কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে বোধহয় একটু বেশিই করে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। দেশে ফিরে উদযাপনের সময় ফরাসি তারকার মুখচ্ছবি আঁকা

একটি পুতুল নিয়ে উপহাস করায় সমালোচিত হচ্ছেন তিনি।এমন উদযাপন করে মার্তিনেস ‘স্টুপিড’-এর মতো আচরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার পাত্রিক ভিয়েইরা।কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে

টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর শিরোপা ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চ ও উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ গোলে ড্র হয়।পেনাল্টি শুটআউটে কিংসলে কোমানের শট ঠেকিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন

মার্তিনেস। পরে অহেলিয়া চুয়ামেনি মারেন পোস্টের বাইরে। তিন যুগ পর বিশ্ব জয়ের আনন্দে মাতে লাতিন আমেরিকার দলটি।ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন এমবাপে। ফ্রান্সের তিনটি গোলই করেন তিনি। তার এমন প্রচেষ্টার পরও হারের

তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে শিরোপাধারী হিসেবে আসর শুরু করা ফরাসিদের। ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে উদযাপনের সময় এমবাপের জন্য ‘এক মিনিট নীরবতা পালনের’ ঘোষণা দিয়ে মার্তিনেস মজা করেন বলেও গণমাধ্যমের খবর।

সেখানেই শেষ নয়। বিশ্ব সেরার সোনালী ট্রফি নিয়ে আর্জেন্টিনায় পৌঁছে গত মঙ্গলবার লাখো সমর্থকের সামনে মার্তিনেস ঠাট্টা করেন এমবাপেকে নিয়ে। ওইদিন ছিল এমবাপের জন্মদিন। একটি ছোট পুতুলে ফরাসি স্ট্রাইকারের মুখচ্ছবি

লাগিয়ে কোলে নিয়ে রাখেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।যা নিয়ে হয় প্রবল সমালোচনা। ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রী মার্তিনেসের এমন উদযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রকাশ্যে। দেশটির পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনে অভিযোগও

করা হয়।বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভস জেতা মার্তিনেসের উদযাপনের ধরন নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ভিয়েইরা। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতা এই ফুটবলার শুক্রবার বলেন, আর্জেন্টিনার অর্জনকে

কিছুটা মলিন করে দিয়েছে এই কাণ্ড।“বিশ্বকাপের পর এমবাপেকে নিয়ে যেসব কটূক্তি ও মন্তব্য করা হয়েছে, আমি মনে করি তা খেলাটি ও তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমি কিছু ছবি দেখেছি যেখানে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক যা করেছে বিশ্বকাপে

তাদের অর্জনকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।”“তাদের এমন করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। মাঝে মধ্যে, মানুষের আবেগ বা সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কিন্তু এমনটা করা মার্তিনেসের বোকার মতো সিদ্ধান্ত ছিল। আমি সত্যিই হতাশ হয়েছি।”

টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের শুরুতেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে বসে আর্জেন্টিনা। তবে দলের প্রতি বিশ্বাস হারায়নি সমর্থকরা। সমর্থন দিয়ে গেছে আসর জুড়ে। দলও তার প্রতিদান দিয়েছেন; একের পর এক চ্যালেঞ্জ টপকে

লিওনেল মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জেতে তারা।আলবিসেলেস্তেদের এই অর্জনে মেসির পাশাপাশি আরও কয়েক জনের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। তাদের মধ্যে গোলরক্ষক মার্তিনেসও। কিন্তু তাদের এই

অর্জনে মার্তিনেসের ওই বাজে উদযাপনই কালো দাগ লাগিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ ভিয়েইরা।“আমি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসার একটি ছবি দেখতে চাই, ম্যাচগুলোর সময় তারা যেমনটা দেখিয়েছিল।

অবশ্যই তারা বিশ্বকাপ জিতেছে, কিন্তু গ্যালারিতেও তারা ছিল দারুণ।”“আমি এসবই মনে রাখতে চাই। আমি ওইসব মূর্খ সমর্থকদের কথা ভাবতে চাই না, যারা মাঠে ও মাঠের বাইরে আর্জেন্টিনা যা অর্জন করেছে সেখানে কালো দাগ ফেলেছে। এটা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের অন্ধকার দিক।”