ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পাঁচটি অদ্ভুতুড়ে পুরস্কার; আছে বাংলাদেশের নাম

সময় সাথে সবকিছু কত তাড়াতাড়ি বদলে যায়, তাই না? গত শতাব্দীর বিশের দশকে যেসব জিনিসের কথা তখনকার বিজ্ঞানীরা কল্পনা পর্যন্ত করতে পারেননি, আজ সেগুলো আমাদের জন্য নিত্য-ব্যবহার্য সামগ্রী। এই যেমন, নব্বইয়ের দশকের

শেষদিকেও ক্রিকেটারদের ম্যাচ সেরার পুরষ্কার হিসেবে রঙিন টিভি কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী দেওয়া হতো, যা এপ্রজন্মের কোনো ছেলে সহজে বিশ্বাস পর্যন্ত করতে চাইবে না। কারণ উন্নত প্রযুক্তির সুবাদে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে আজকাল

হাজারো কোটি টাকার বাণিজ্য তৈরি হয়েছে এবং বেশিরভাগ দ্বিপাক্ষিক স্পন্সরশিপ করা প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন ট্রফি থেকে শুরু করে প্রাইজমানির অর্থটুকু পর্যন্ত দিয়ে থাকে। তাছাড়া বড় কোনো সিরিজে বা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ঝাঁ চকচকে গাড়ি

উপহার দেওয়াটাও ইদানিং নতুন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যেটিও সাধারণত কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্যের প্রচারণার স্বার্থে স্পন্সর করে থাকে। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, এই একুশ শতাব্দীতেও যদি

কোনো টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের রীতিমতো জুতোর ফিতা বা ব্যাটের গ্রিপ দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয় – তাহলে ব্যাপারটি কেমন দাঁড়াবে? অবাক হলেও সত্য হচ্ছে, গত এক যুগেও বেশ কয়েকটি ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের এ

মন কিছু অদ্ভুতুড়ে উপহার দেওয়া হয়েছে যা সেসময় অনলাইন জগতে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আর এসব ঘটনার মধ্য থেকে বাছাই করে সেরা পাঁচটি অপ্রত্যাশিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের গল্পই আজ পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।

না, পাড়াগাঁয়ের কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরষ্কারের গল্প শোনাচ্ছি না। বলছি গত বছর আয়োজিত ভারত-অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজের কথা। সেবার সিরিজের প্রথম ম্যাচেই মাত্র ২৬ রান খরচ করে বিরাট কোহলিদের গুরুত্বপূর্ণ

চারটি উইকেট শিকার করে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ পেসার ঝি রিচার্ডস। আর দারুণ এই পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে ম্যাচ সেরা হিসেবে বাছাই করে নিতেও খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি নির্বাচকদের।

অন্যদিকে বেচারা রিচার্ডসনও হয়তো বা তখন সমাপনী অনুষ্ঠানে ভালো কিছু পাওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে আয়োজকরা তাঁর হাতে পুরষ্কার স্বরূপ কেবলমাত্র জুতোর ফিতা এবং ক্রিকেট

ব্যাটের গ্রিপ তুলে দেন। প্রথমে অনেকে ব্যাপারটিকে নিছক দুষ্টুমি বলে মনে করলেও, পরে জানা যায় আয়োজকরা ম্যাচ সেরার পুরষ্কার হিসেবে আসলে এগুলোই পছন্দ করে রেখেছিলেন। অন্যদিকে এতো দামি একটি সিরিজে এতো

নিম্নমানের উপহার দেওয়ার জন্য আয়োজক ভারতকে সেসময় কড়া সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। কেননা এধরনের মেগা সিরিজে আয়োজকরা সাধারণভাবেই কোটি-কোটি টাকা আয় তরে থাকে।‘আহা! ফ্রিতে যদি কেউ আমাকে

অনেকগুলো চকলেট আর চিপস উপহার দিতো, তাহলে কি দারুণই না হতো…।’ ছোটবেলায় প্রতিটি শিশু-কিশোরেরই এরকম অমৃত আশা থাকে। কিন্তু বয়স বাড়তে থাকলে এধরনের খাবারগুলো ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ বস্তুর তালিকায়

চলে যেতে শুরু করে। বিশেষ করে, কেউ যদি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে তাঁর জন্য এগুলো তো একেবারেই ‘হারাম’। তবে সিপিএলের এক আসরে খেলোয়াড়দের ম্যাচ জেতানোর পুরষ্কার হিসেবে এধরনের জাঙ্ক

ফুডগুলো হাতে তুলে দিয়েছিল টুর্নামেন্টটির তখনকার স্পন্সর সানশাইন স্ন্যাকস নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা মূলত চিপস ও বাদাম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুত করে থাকে। অবশ্য এঘটনা নিয়ে পরবর্তিতে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও

পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কেননা খেলোয়াড়ি সংবিধানে সবধরনের তৈলাক্ত খাবার খেতে বারণ করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের এধরনের জিনিস উপহার দেওয়াটা ছিল একদম ভুল সিদ্ধান্ত। যেকারণে সিপিএল কর্তৃপক্ষ দ্রুতই কোম্পানিটির সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করে এবং নতুন আরেকটি স্পন্সর খুঁজে বের করে।