ক্যারিয়ারে দুইটি দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন যে ১৫ ক্রিকেটার!

ভা’ব’তে’ই অ’বা’ক লা’গে,য’খ’ন শু’নি এ’ক’জ’ন ক্রি’কে’টা’র তা’র ক্যা’রি’য়া’রে খে’লে’ছে’ন দু’ই’টি আ”লা’দা দে”শের হ’য়ে।ক’খ’নও খে’লে’ছে’ন নি’জ দে’শে’র হ’য়ে,ক’খ’ন’ও খে’লে’ছে’ন নি’জ দে’শে’র বি’প’ক্ষে।এ যে’নো ঘ’রে’র শ’ত্রু বি’ভী’ষণ!!এ’খ’ন প’র্য’ন্ত টে’স্ট ক্রি’কে’টে’র

ইতিহাসে সর্বমোট ১৫ জন খেলোয়াড় একসাথে দুইটি দেশের দলের হয়ে খেলেছে।ওডিআই এর ইতিহাসে এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা ১৪ জন,টি২০ তে এমন সংখ্যা ৯ জন এবং তিন ফরমেটেই খেলেছেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা ৩জন।

চলুন আজ জেনে নেই এমন ১৫ জন ক্রিকেটারের তালিকা,যারা দুইটি দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেনঃ১. বিলি মিডউইন্টারঃ টেস্টের ইতিহাসে ইনিই সর্বপ্রথম খেলোয়াড়,যিনি তার ক্যারিয়ারে দুইটি দেশের হয়ে খেলেছেন।ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া

এই খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের হয়ে ১৮৭৭ সালে ৪ টি ও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৮৮৩-৮৭ পর্যন্ত ৮ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।তার ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ ছিলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং শেষম্যাচ ছিলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।১৮৯০ সালে মাত্র ৪০ বছর

বয়সে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে তিনি মারা যান।২.বিলি মুর্ডোচঃ অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত এই খেলোয়াড় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া দুইদলের হয়েই টেস্ট খেলেছেন।তার বাবা আমেরিকান ছিলেন।বিলি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ছিলেন।

১৮৭৭-৯০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি ১৮ টি টেস্ট খেলেন।অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক ও ছিলেন।ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন মাত্র ১টি ম্যাচ ১৮৯২ সালে।৩. জেমস ফেরিসঃ অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত জেমস ফেরিস ইংল্যান্ড ও

অস্ট্রেলিয়া দুইদলের হয়েই টেস্ট খেলেছেন।লেফট আর্ম সুইং এই বোলার ১৮৮৭-৯০ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮টি ও ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেন।ইংল্যান্ডের হয়ে ১ ম্যাচে দুই ইনিংসে নেন ১৩ টি উইকেট।মাত্র ৩৩

বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।৪. স্যামি উডসঃ অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত স্যামি টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া দুইদলেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।তিনি বহু প্রতিভার অধিকারী ছিলেন।স্যামি ক্যারিয়ারের প্রথমে একজন

রাগবি খেলোয়াড় ছিলেন এবং ইংল্যান্ড জাতীয় রাগবি দলে ৫ বার অধিনায়কত্বও করেছেন।খেলেছেন ইংল্যান্ডের ফুটবল ও হকি টিমেও।২৪ বছরের ক্যারিয়ারে ৪০০টি প্রথম শ্রেণির টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ১৮৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩ টি ও ১৮৯৬

সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ টি টেস্ট খেলেছেন।৫. ফ্রাংক হার্নেঃ ইংরেজ বংশোদ্ভূত হার্নে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুইদেশের হয়েই টেস্ট খেলেছেন।তার ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ ছিলো ইংল্যান্ডের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আর শেষ ম্যাচ

ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২ টি ও ১৮৯২-৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ টি টেস্ট খেলেন।৬. আলবার্ট ট্রটঃ অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত ট্রট ১৮৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন,টেস্ট খেলেছেন ইংল্যান্ড

ও অস্ট্রেলিয়া দুইদলের হয়েই।১৮৯৯ সালে উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হন তিনি।ট্রট বিশ্বাস করতেন তিনি ছাড়া আর কারও পক্ষে ছয় মেরে লর্ডসের গ্যালারি পার করানো সম্ভব না।যোগীন্দর রাও ছাড়া তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার,যিনি

ফার্স্টক্লাস ক্যারিয়ারে একই ইনিংসে দুইটি হ্যাটট্রিকের মালিক।অলরাউন্ডার এই খেলোয়াড় ১৮৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩ টি ও ১৮৯৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২ টি টেস্ট খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার ক্যারিয়ার মোটামুটি সম্বৃদ্ধ। ১৯১৪ সালে মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন।

৭. ফ্রাংক মিচেলঃ ইংলিশ বংশোদ্ভূত ফ্রাংক ছিলেন একাধারে ক্রিকেট ও রাগবি খেলোয়াড়। তিনি ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন।১৮৯৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র ২ টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ টি টেস্ট খেলেন।

৮. ইফতিখার আলী খান পতৌদিঃ পতৌদি বংশের ৮ম নবাব ইফতিখার আলী খান ১৯৩২-৩৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ টি ও ১৯৪৬ সালে অধিনায়ক হিসেবে ভারতের হয়ে ৩ টি টেস্ট খেলেন।মাত্র ৪১ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৯. গুল মোহাম্মদঃ গুল ১৯২১ সালে পাকিস্তানের লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন।খেলেছেন ভারত-পাকিস্তান দুই দলের হয়েই।১৯৪৬-৫২ সালে ভারতের হয়ে ৮ টি ও ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের হয়ে ১ টি টেস্ট খেলেন।খর্বকায় উচ্চতার গুল একজন আক্রমনাত্মক বামহাতি প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ছিলেন।

১০. আব্দুল হাফিজ কারদারঃ পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও পলিটিশিয়ান হাফিজ তিনজন ক্রিকেটারের একজন যিনি ভারত-পাকিস্তান দুইদলের হয়েই টেস্ট খেলেছেন।

লাহোরে জন্মগ্রহণ করা হাফিজ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন।তিনি ১৯৪৬ সালে ভারতের হয়ে ৩ টি ও ১৯৫২-৫৮ সালে পাকিস্তানের হয়ে ২৩ টি টেস্ট খেলেন।

১১. আমির ইলাহিঃ লাহোরে জন্ম নেওয়া আমির লেগব্রেক গুগলি বোলার ছিলেন।১৯৪৭ সালে ভারতের হয়ে ১টি ও পাকিস্তান টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার পর ১৯৫২-৫৩ সালে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন ৫ টি টেস্ট ম্যাচ।

১২. সামি গুইলেনঃ ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে জন্ম নেওয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার সামি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড দুইদেশের হয়েই খেলেছেন।

তিনি যেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেন,সেদিনই সর্বপ্রথম নিউজিল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্টে জয়লাভ করে।তার বাবা ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আম্পায়ার। ১৯৫২-৫৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৫ টি ও পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ টি টেস্ট খেলেন।

১৩. কেপলার ওয়েসেলসঃ ১৯৫৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে জন্ম নেওয়া কেপলার বামহাতি ওপেনার ছিলেন।তিনি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুইদেশের হয়েই টেস্ট খেলেছেন। ১৯৮২-৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৪ টি ও ১৯৯২-৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেন ১৬ টি টেস্ট।

১৪. জন ট্রাইকোসঃ মিশরীয় বংশোদ্ভূত ট্রাইকোস অফস্পিন বোলার ছিলেন। ১৯৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ টি টেস্ট। বর্ণবৈষম্যের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহিষ্কৃত হলে ১৯৯২-৯৩ সালে তিনও জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ টি টেস্ট খেলেন।

১৫.বয়েড র্যাংকিনঃ আইরিশ ক্রিকেটার র্যাংকিন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড দুইদলের হয়েই খেলেছেন। ২০০৭-১২ সাল পর্যন্ত তিনি আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলেন,

পরবর্তীতে ২০১৩-১৪ সালে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ১টি টেস্ট খেলেন।বর্তমানে তিনি আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলছেন,তিনি এখন আয়ারল্যান্ডের নিয়মিত ফার্স্টবোলার,খেলেছেন দুইটি টেস্টও।