ইংলিশ রাজত্বের অস্ত গেলো ঢাকায়; টাইগারদের হাতে ধবলধোলাই ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো সংস্করণেই সিরিজ জয় ছিল অধরা। সেই অপ্রাপ্তি ঘুঁচে গিয়েছিল দ্বিতীয় ম্যাচেই। আর টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়কে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতেই হয়তো শেষ ম্যাচেও ছেড়ে

কথা বললো না টাইগাররা! মিরপুরে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের ১৬ রানে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যও পূরণ করে ফেললো সাকিব বাহিনী।
বাংলাদেশের দেয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে

শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। অভিষিক্ত তানভীর ইসলাম প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আউট করেন ফিল সল্টকে। এরপরই খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন মালান-বাটলার। দলের সেরা দুই ব্যাটারের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৬ বলে আসে

৯৫ রান। জস বাটলার ও ডাভিড মালানের ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর কাজটা অন্তত মসৃণভাবেই সাড়তে যাচ্ছে ইংলিশরা।এরপর ১৪ তম ওভার করতে এলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই উইকেটে থিতু হয়ে

যাওয়া জস বাটলারকে ফেরালেন কাটার মাষ্টার। নামলেন বেন ডাকেট। প্রথম বলেই সিঙ্গেলের জন্য ছুঁটলেন। কিন্তু পয়েন্ট থেকে মেহেদী হাসান মিরাজের উপর যেন ভর করলেন জন্টি রোডস! সরাসরি থ্রোতে দুরূহ কোণ থেকে স্ট্যাম্প

ভেঙে তিনি সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন অর্ধশতক হাঁকানো মালানকে। দুই বলেই মধ্যেই খেলার গতিপথ পাল্টে দিয়ে তখনই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।এরপর আর কোনো ইংলিশ ব্যাটারই পারেননি টাইগারদের বোলিং অ্যাটাকের

বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে। তাসকিনের করা ১৭ তম ওভারে ফিরে যান দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার বেন ডাকেট ও মইন আলী। বল-রানের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে খেই হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন স্যাম কারানও। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তাসকিন-

সাকিব-মোস্তাফিজরা ইংলিসগদের বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়েছে স্লগ ওভারজুড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানেই থামে জস বাটলারদের ইনিংস। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রাজত্বের অবসান ঘটালো সাকিব বাহিনী।

আর সেটাও নিজেদের ঢঙে; যার নাম ‘বাংলাওয়াশ’।এর আগে, মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে লিটন দাসের

ক্যারিয়ার সেরা অনবদ্য ৭৩ রান এবং ইনফর্ম নাজমুল হোসেন শান্ত’র অপরাজিত ৪৭ রানের ওপর ভর করে ১৫৮ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। আর সময়পযোগী নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টাইগাররা জানিয়ে দিলো, প্রতিপক্ষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও নিজেদের মাটিতে যেন বরাবরের মতোই ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছিল বাংলাদেশ।