অল্পের জন্য লেখা হলো না মহাকাব্য, ভুল কি তবে ম্যানেজমেন্টের গাফিলতি

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ, আবারো তীরে এসে তরী ডোবানোর গল্প লিখল টাইগাররা। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এখনও নবীন দল তকমা নিয়ে খেলা বাংলাদেশের জন্য ভারতের মতো পরাক্রমশালী দলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত

লড়াই করাটাও বা কম কি।ম্যাচটি একটু এদিক-ওদিক হলেই পরাজয়ের শৃঙ্খল ভেঙ্গে বিজয়ের মহাকাব্য লিখতে পারতো টাইগাররা। তবে দিনশেষে সেটি হয়নি, তিন উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং

ব্যর্থতার পর টাইগারদের পক্ষ থেকে এরকম লড়াই খুব বেশি মানুষ প্রত্যাশা করেনি। প্রথম ইনিংসে অবশ্য নিজেদের দুর্বলতা নতুন বল সামলানোর চ্যালেঞ্জ বেশ ভালো ভাবেই উতরে ছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসের এক সময় টাইগারদের

স্কোর ছিল ২১৩/৫। সেখান থেকে মাত্র ২২৭ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ! অবিশ্বাস্যই বটে, এরকম আনপ্রেডিক্টেবল খেলা বোধহয় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কাছেই প্রত্যাশা করা যায়। অর্থাৎ ১৪ রানের ব্যবধানে ৫টি উইকেট

হারায় বাংলাদেশ। পরবর্তীতে আবার নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো বাংলাদেশ ২৩১ রানে গিয়ে থামে।অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে ১৪ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ পাঁচ

উইকেটে তুলে ১২৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসের এই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটেই ম্যাচে ফেরে টাইগাররা। চতুর্থ ইনিংস ১৪৫ রানের লক্ষ্য দেয় সফরকারীদের। তৃতীয় দিনের শেষ হতে না হতেই ৪৫ রানের ব্যবধানে চারটি উইকেটও হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।

সে মুহূর্তে টাইগাররাই ম্যাচের ফেভারেটের আসনে ছিলেন। চতুর্থ দিনের শুরুতেই ব্রেকথু পায় টাইগাররা।দিনের প্রথম ঘন্টার খেলা শেষে সফরকারীদের স্কোর দাঁড়ায় ৭৪/৭ উইকেটে। ম্যাচের এই মুহূর্তে টাইগারদের জয়কে স্রেফ সময়ের ব্যাপার বলেই

মনে হচ্ছিল। তবে অশ্বিন এবং শ্রেয়াস আইয়ারের মধ্যকার ৭১ রানের পার্টনারশিপ টাইগারদের হাতের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে নেয়। ক্যাচ মিস,টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা হীনতা হারার কারণ হিসেবে অনেকগুলো ইস্যুই দাঁড় করানো যায়।

ফিল্ডিংয়ের সমস্যা টাইগারদের জিনগতই বলা চলে। চাপের মুহুর্তে যেন সে সমস্যা আরো গভীরভাবে প্রকট হয়।তবে টিম ম্যানেজমেন্টের কিছু ভুল সিদ্ধান্তও এই ম্যাচ হারার অন্যতম কারণ। টেস্ট দলে সোহানকে কোন যুক্তিতে খেলানো হচ্ছে তা

দেশবাসীর কাছে একটি ধাঁধার মতো। দলে মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাসের মতো বিশেষজ্ঞ কিপার থাকার পরও স্পেশালিস্ট একজন কিপার হিসেবে সোহানকে খেলানোর সিদ্ধান্তটা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ।ব্যাটসম্যান হিসেবে সোহান কখনোই টেস্টের জন্য

আদর্শ নয়। সিরিজে সোহানের প্রত্যেকটি আউটই বেশ দৃষ্টিকটু ছিল। অধিকাংশ আউটের ধরণই ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যালেন্স না রাখতে পেরে ক্রীজার বাইরে চলে যাওয়া। বল মিস অতঃপর কিপার দ্বারা স্ট্যাম্পিং। এছাড়াও স্পেশালিস্ট কিপার হিসেবে

খেলানো সোহান ম্যাচে মিস করেছেন সহজতম একটি স্ট্যাম্পিং। জীবন পাওয়া রিশভ পান্ত শেষ পর্যন্ত ৯৩ রানের ইনিংস খেলে থামেন। বলার অপেক্ষা রাখে না লো স্কোরিং ম্যাচে সোহানের স্টাম্পিং মিস ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।

এছাড়াও আক্রমণাত্মক এপ্রচে খেলা সাকিব টপ অর্ডারে কেন খেলতে নেমেছিলেন এ প্রশ্নটিও অজানা। নাম্বার ফোরের ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব মূলত ইনিংস মেরামতের। দেখে শুনে খেলে বলকে পুরানো করাই চার নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যানের কাজ।

তবে দেখে খেলা তো দূরে থাক সেই চিন্তা করেই মাঠে নামেননি সাকিব। প্রায় প্রতি বলেই মেরে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে এই ফর্মুলায় সাফল্য আসলেও নিশ্চয়ই ধারাবাহিকভাবে এভাবে সফল হওয়া সম্ভব নয়।

আর টেস্ট ক্রিকেটে তো সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। এছাড়াও ইয়াসির আলীকে প্রথম টেস্টে টপ অর্ডারে ব্যাট করানো। একবারের জন্যও চিন্তা না করা তরুণ ইয়াসির আলীর জন্য হুট করেই ভারতের মতো দলের বিপক্ষে টপ অর্ডারে ব্যাট করা

কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। পরবর্তীতে ব্যর্থ ইয়াসির আলীকে বাদ দিতেও কার্পণ্য করেননি টিম ম্যানেজমেন্ট। সবমিলিয়ে ফিল্ডিং ব্যর্থতা পরিকল্পনাহীনতা এসব কারণেই ইতিহাস রচনা করতে গিয়েও করতে পারেনি বাংলাদেশ।