অবাক ক্রিকেটবিশ্ব, আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক ইনিংসে চার ‘মানকাড’ আউট, ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

আন্তর্জাতিক অভিষেকে এমন ‘স্পটলাইট’ কজনই–বা পান! সেটাও আবার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আঞ্চলিক পর্যায়ের কোনো ম্যাচে।ক্যামেরুনের মেয়েদের দলের ১৬ বছর বয়সী পেসার মায়েভা দুমা আন্তর্জাতিক

সংবাদমাধ্যমের খবর হয়েছে এক ম্যাচেই উগান্ডার চারজন ব্যাটারকে ‘মানকাড’ করে।বোলার ডেলিভারি সম্পন্ন করার আগেই নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে রানআউট করা ক্রিকেটের আইনসিদ্ধ হলেও সেটা নিয়ে সব সময়ই বাড়তি

বিতর্ক শুরু হয়। দুমার ক্ষেত্রেও হয়েছে সেটাই।এবার সে নিজেই জানিয়েছে এমন করার কারণ। আইসিসির সঙ্গে কথা বলার সময় দুমা বলেছে, চারটা ‘মানকাড’ আউট পূর্বপরিকল্পিত না হলেও উগান্ডার ব্যাটারদের হাবভাব দেখেই এ

কৌশল নিয়েছে সে।ডেলিভারির আগেই ক্রমাগত ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসছিলেন উগান্ডার ব্যাটাররা। দুমা নিতে চেয়েছে সে সুযোগটাই, ‘এ টুর্নামেন্টে খেলতে আসার আগে এটাকে আসলে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার কথা ভাবিনি।

তবে খেলা এগোতে থাকার পরই খেয়াল করলাম, ব্যাটাররা ক্রিজের ভেতর থাকছেই না। তখনই ভাবলাম, “আউট করার এ সুযোগটা কেন নিচ্ছি না আমি?” সত্যি বলতে এটা কৌশল ছিল না, তবে একটা সুযোগ হিসেবেই দেখেছি।’

‘মানকাড’ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এ সুযোগ নেওয়ার মধ্যে দোষের কিছু দেখে না সে, ‘আমার মনে হয় এটা ভালো একটা কৌশল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন এমন হয়, আর স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটারদের আউট করাটা কঠিন হয়। যদি নন

স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটারকে এভাবে আউট করা যায়, তাহলে তো আমার মনে হয় এটা দারুণ একটা সুযোগই।’অবশ্য দুমা সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলেই নিয়েছে এমন ‘কৌশল’, ‘বিশেষ করে প্রথম রানআউটটার পর আমরা একটা সুযোগ

দেখেছি। দলের সবাই আলোচনা করেছি। এরপরই মনে হয়েছে, যদি আবারও এমন সুযোগ আসে, তাহলে ম্যাচজুড়েই সেটা কাজে লাগাব আমরা। দলের সবার কাছ থেকেই উৎসাহ পেয়েছি আমি।’দুমার নেওয়া সে সুযোগ ভালোই কাজে

লেগেছিল ক্যামেরুনের। তার করা প্রথম রানআউটের আগে উগান্ডার রান ছিল ১৫.২ ওভারে ১ উইকেটে ১৫৩। তবে চারটা রানআউটের পর উগান্ডা ২০ ওভার শেষে তুলতে পেরেছিল ৬ উইকেটে ১৯০ রান।শেষ পর্যন্ত রান তাড়ায় অবশ্য

৩৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে ১৫৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে ক্যামেরুন। চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে দুমা ১২ বলে করেছে ১ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ক্যামেরুনের মেয়েরা আফ্রিকা অঞ্চলের টেবিলে এখন পর্যন্ত আছে তলানিতেই,

৪ ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি তারা।তবে ক্যামেরুনে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বেশ বাড়ছে বলেই জানিয়েছে দুমা, ‘ক্যামেরুনে দিন দিন ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছেই, স্কুলগুলোতেও নিয়মিত অনুশীলন হচ্ছে। আইসিসির

এমন টুর্নামেন্টে দারুণ সুযোগও পেয়েছি আমরা। পুরো বিশ্বই আমাদের খেলা দেখছে। ফলে জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে। এমন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারাটা আমার জন্য শুধু গর্বের নয়, শেখার দারুণ একটা সুযোগও।’ক্রিকেটার হিসেবে নিজের

স্বপ্নের কথাও জানিয়েছে এ অলরাউন্ডার, ‘শুধু জাতীয় দলে নয়, এর বাইরেও অন্য পেশাদার দলগুলোতে আরও ভালো একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে চাই আমি। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যেতে চাই, যাতে স্বপ্নপূরণ করতে পারি।