অবশেষে সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে মাহমুদুল্লাহকে অবসরে দিয়ে দিল বিসিবি।

দলের দুঃসময়ে ত্রাতা হিসেবে মাহমুদউল্লাহর সুনাম বহুদিনের। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে বড় স্কোর গড়ার বহু নজির রয়েছে তার। শেষ দিকে একা লড়াই করে দলকে জিতিয়েছেন এমন দৃশ্যগুলো কখনও ভোলার নয়।

তবে মিস্টার ডিপেন্ডেবল মাহমুদউল্লাহর ব্যাট সম্প্রতি হাসছে না। জাতীয় দলের পঞ্চপাণ্ডবের একজন এই সিনিয়র খেলোয়াড়ের ওয়ানডে ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।টি-টোয়েন্টিতে তিনি থেকেও নেই। ওয়ানডেতে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সিরিজের

তিন ম্যাচই খেলেছেন। তবে রান করেছেন মাত্র ৭১ রান। তার এই পারফরমেন্সের সমালোচনা হচ্ছে।এমতাবস্থায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে ঘোষিত বাংলাদেশ দলে ৩৬ বছর বয়সি মাহমুদউল্লাহর নাম নেই। প্রশ্নটা

স্বভাবতই বড় হয়ে গেল যে,মাহমুদউল্লাহর কি তবে শেষের শুরু হয়ে গেছে?তবে দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তার না থাকাকে ‘বিশ্রাম’ হিসেবে দেখিয়েছেন। হাবিবুল বাশার সুমনও বিশ্রামের কথাই বলেছেন।

তবে প্রেক্ষাপট যা বলছে, বিশ্রামের আদলে মাহমুদউল্লাহর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পাশে ‘শেষ’ শব্দটাই সম্ভবত বসে গেছে। তাকে ফিরতে হলে পারফর্ম করে ফিরতে হবে। সময় ও অবস্থান বিবেচনায় তার পারফর্ম করে ফেরাটা অনেকটাই অনিশ্চিত।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদউল্লাহর বিশ্রাম হতে যাচ্ছে তার বিকল্প তৈরির পদক্ষেপ হিসেবেই। যেহেতু সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, সেখানে চোখ রাখতে হচ্ছে বিসিবিকে। সেখানে তারুণ্য নির্ভর দল পাঠাতে চায় বিসিবি।

তবে বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন সোমবার বলেছেন, ‘যখন বড় টুর্নামেন্ট আসবে, সেখানে সে (মাহমুদউল্লাহ) আগেই খেলেছে। তার ওখানে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কিছু নেই। তবে তার জায়গায় কাউকে নিতে হলে তাকে

পরীক্ষা দিতে হবে। এই চিন্তাভাবনা থেকে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।’মাহমুদুল্লাহর বদলে দলে সুযোগ পেয়েছেন জাকির হাসান। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। মাহমুদুল্লাহর দলে না থাকা এবং জাকিরের সুযোগ

পাওয়া নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল নতুন মুখ নেওয়ার। আয়ারল্যান্ড সিরিজে সেটিই করছি। এর অংশ হিসেবে মাহমুদুল্লাহকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।মাহমুদুল্লাহর দলে না থাকা নিয়ে সামাজিক

যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে, তিনি যে বাদ পড়তে পারেন সেই বিষয়ে আভাস দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বোর্ডপ্রধান আগেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘আসন্ন আয়ারল্যান্ড

ও পরবর্তী সিরিজের দলে বেশকিছু পরিবর্তন আসবে, কিন্তু কাউকে বাদ দেব না আমরা। বাদ শব্দটি ব্যবহার করে ভুল ব্যাখ্যা যেন না দেওয়া হয়।’বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গতকাল রোববার (১২ মার্চ)

সিলেটে পৌঁছায় আয়ারল্যান্ড দল। ১৮, ২০ ও ২৩ মার্চ ওয়ানডেতে টাইগারদের মুখোমুখি হবে আইরিশরা। ২৭, ২৯ ও ৩১ মার্চ চট্টগ্রামে খেলবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। ৪ মার্চ থেকে ঢাকায় শুরু হবে একমাত্র টেস্ট।